২০২৩ সালে কি হতে চলেছে?

 

অধঃপতনের শুরুটা হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫-জানুয়ারি। সেই বছরে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি ১৪৭ আসনে নির্বাচন হলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিপক্ষে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় জনগণ খুব একটা আগ্রহী ছিল না ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে। বিষয়টি এতটাই দৃষ্টিকটু ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাতে বিব্রত হয়ে বলেছিলেন এমন নির্বাচন তিনি আর দেখতে চান না। সে কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনের বছরে দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে তিনি ২০১৪ সালের মত নির্বাচন দেখতে চান না, এবং আরো বেশি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কাউকে পাশ করিয়ে আনার দায়িত্ব নিতে চান না। এই কারণে বাঙলার (বোকা-সোকা) জনগণের ভেতরে ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন নিয়ে একটা আগ্রহ দেখা দেয়।

সব মিলিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত প্রায় সকল দলই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ফলে শুরুতে জনগণের মধ্যে একটি সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নিয়ে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকতে পারেনি বিরোধী মতের প্রার্থীরা। এখানেই শেষ নয়, নির্বাচনের আগের রাতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের প্রতীকে সিল মেরে ভোটের বাক্স ভরাট করার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ছাপা হয়েছে। ভোটের দিন নানা কৌশলে বিরোধী দলের এজেন্টমুক্ত রাখা হয় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো। তারপরও বিরোধী মতের ভোটাররা যেন তাদের প্রার্থীদের ভোট দিতে না পারে তার জন্য যা যা কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন তার সব কিছুই করা হয়েছে।

দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাইকৃত ৫০টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ৪৭টিতেই ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিআইবি। এমন কি একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী মতের প্রার্থীদের অভিযোগগুলো যে অমূলক ছিল না, তা স্বীকার করেছে ক্ষমতাসীন দলের শরীকরাও। শুধু তাই নয়, খোদ নির্বাচন কমিশনও এটা যে ভালো করেই জানে সেটা বোঝা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এক বক্তব্যের মাধ্যমে। যেখানে তিনি বলেছেন, ইভিএম-এ ভোট হলে আগের রাতের ভোটের অভিযোগ উঠত না।

এর পর থেকেই প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণ তাদের অংশীদারিত্বের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তার প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনাগ্রহের মধ্য দিয়ে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কেমন ছিল সেটা আমরা জানি। খালি ভোট কেন্দ্রগুলো যেন সরকারের ৩০-ডিসেম্বরের নির্বাচনের মেগা-জয়ের দিকে আঙুল তুলে বিদ্রুপ করছিল যেন!

তারপর শুরু হয় উপজেলা নির্বাচন। সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ ধাপের এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে চারটি ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবখানেই ভোটারদের জন্য হাহাকার লক্ষ করা গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে এমনো দেখা গেছে, যেখানে ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাকর্মচারীর সংখ্যার চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পড়েছে। শুধু তাইই না, নির্বাচন কমিশন, যারা কিনা কাস্টিং ভোটের হিসাব তাদের ইচ্ছেমত দিয়ে থাকে, তারা পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা হ্রাসের ব্যাপারটা লুকাতে পারছে না।

সেই অবসরে জনগণ বুঝে গেছে, এদেশে আর ভোট হবে না। অন্ততঃ তাদের আর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে না। এর চেয়ে উত্তর কোরিয়া বা উগান্ডায় ভালো নির্বাচন হয় বলে নেটিজেনদের আলোচনায় তা উঠে আসছে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি এই মেয়াদের পরে আর নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। কিছু দিন আগে তাঁর মুখ নিঃসৃত দুটি বাণী আমাদের মনে রাখতে হবে। এক, বাকশাল কায়েম হয়েছিল ভালো কিছুর জন্যই, কিন্তু জাতির পিতা তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেন নাই। দুই, বাকশাল থাকলে ভোট নিয়ে এতো কিছু হত না, সবাই ভোট দিতে পারত। কথা দুটোর সাথে উনার অবসরের কথা চিন্তা করলে একটা আভাস পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি ছেড়ে দেবেন, এমন কোনো আলামত দৃশ্যমান নেই। তবে ভারতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকার পরও সোনিয়া গান্ধী যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দলের নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দিতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীও। যেমনটা করেছেন তিনি একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভা গঠনের সময়। পুরাতন অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সাবেক মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন অপেক্ষাকৃত তরুণদের সমন্বয়ে। এখানে একটি বিষয় অবশ্য আছে, আর সেটি হলো ভারতের প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এক নয়। সেক্ষেত্রে অন্য একটি সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠে।

আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের মেয়াদ ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শেষ হওয়ার কথা। সে সময়ে নতুন কাউকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে, ঠিক 25 জানুয়ারি ২৯৭৫ সালে পাশকৃত সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫, যার মাধ্যমে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বাকশাল গঠন করা হতে পারে।

এমন কিছু যে হবে, তা কেউ বলছেন না। তবে আভাস ইংগিত থেকে অনেকেই এমনটা ভাবা শুরু করেছেন। হতে পারে প্রেসিডেন্ট হবার পরে উনার ছোট বোন ক্ষমতায় চলে আসতে পারেন। ততদিনে বিরোধী দলের দিকে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য নেতা-নেত্রীর থাকবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তাই সবার প্রশ্ন, ২০২৩ সালে কি হতে চলেছে এই দেশে?

 

Advertisements

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংবিধান, স্বদেশ

একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিচারণ

লেখকঃ সাঈদ তারেক

আজ ২৫শে জানুয়ারি। ৪৪ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছিল সংবিধানের চতুথ সংশোধনী, যার মাধ্যমে দেশের রাজনীতির ধারার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। সব দল বিলুপ্ত হয়ে একটিমাত্র দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বলা যায় এই ঘটনা ছিল রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট। সাংবাদিকতার সুবাদে আমার সুযোগ হয়েছিল ঐতিহাসিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদশী হবার।

সংসদ ভবন তখন নাথালপাড়ায় (আজকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে স্পীকারের আসনের বা পাশে সে সময় ছোট একটি প্রেস বক্স ছিল। ১৫/১৬জন সাংবাদিক সেখানে বসতে পারতেন। সাধারনত এক কাগজ থেকে একজন এবং সিনিয়ররাই বসতেন সেখানে। অন্যরা ওপরে প্রেস গ্যালারিতে বসতেন। আমি তখন দৈনিক গণকন্ঠের রিপোটার। আসফদ্দৌলা ভাই, শাহ আলম ভাই, মোস্তফা জব্বার এবং আমি- প্রধানত এই চারজনই গণকন্ঠ থেকে পালা করে সংসদ অধিবেশন কাভার করি। আমি চেষ্টা করতাম অধিবেশন কক্ষের ভেতরের প্রেসবক্সে বসতে। কারণ ওখান থেকে অধিবেশন দেখলে মনে হতো বুঝি নিজেই অধিবেশনে বসে আছি। অন্য সিনিয়রদের মধ্যে যাদের কথা স্মরণ করতে পারছি তারা হচ্ছেন, আতিকুল আলম, আতাউস সামাদ, গিয়াস কামাল চৌধুরী, তোজাম্মল আলী তোজা ভাই, সম্ভবত: মাসির হোসেন হিরু ভাই, রিয়াজউদ্দিন আহমদ, অবজারভারের আতিক ভাই, ইত্তেফাক থেকে সম্ভবত: শফিকুল কবির। আরও অনেকেই বসতেন নীচের প্রেস বক্সে, সবার নাম মনে করতে পারছি না।
কয়েকদিন আগে থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল সংবিধানে আর একটা সংশোধনী আনা হচ্ছে। সব দল নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে, রাস্ট্রপতি পদ্ধতির শাষন কায়েম হবে, বঙ্গবন্ধু আজীবন প্রেসিডেন্ট হবেন। এসব নিয়ে পরিস্থিতি খানিকটা গুমোট ছিল। এর মধ্যে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হলো। যতদুর মনে পড়ে এর ওপর দিনদুই আলোচনাও হলো। আওয়ামী লীগের সাংসদরা বিলের পক্ষে বক্তৃতা করলেন।

বিরোধী গ্রুপের সাত সদস্য আতাউর রহমান খান, জাসদের মাইনুদ্দিন মানিক, আব্দুস সাত্তার, মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা এবং আরও দুই একজন বিলের সমালোচনা করলেন। কর্ণেল ওসমানী এবং ব্যরিস্টার মঈনুল হোসেন বিলের বিরোধিতা করলেন। তবে বিলের সমালোচনা করে সবচাইতে সুন্দর বক্তৃতাটি করলেন এ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ( আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা)। প্রায় চল্লিশ মিনিট পিনপতন নিস্তব্ধতার মধ্যে সাবলীল ইংরাজিতে এই বিল কেন পাশ হওয়া উচিত নয় তার কারণগুলো ব্যখ্যা করলেন। আমি সেদিন নীচের প্রেসবক্সে। ট্রেজারী বেঞ্চ ছিল আমাদের মুখোমুখি। পনের বিশ গজ দুরেই প্রথম সারির কোনার সীটটায় বসতেন বঙ্গবন্ধু। সিরাজুল হক সাহেবের বক্তৃতার সময় সবার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিলাম।

বঙ্গবন্ধু বেশ মনোযোগ সহকারে শুনলেন। সব শেষে বঙ্গবন্ধু দাঁড়ালেন। বিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন। দেশের তৎকালীন পরিস্থিতিতে কেন একদলভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা দরকার তার কারণ ব্যখ্যা করলেন। সংসদ নেতার বক্তৃতার পর স্পীকার বিল ভোটে দিলেন। কন্ঠভোটে তা পাশ হলো। এরপর ডিভিশন। পক্ষের যারা তার ডান দিকের লবিতে গেলেন। বিপক্ষের কয়েকজন এলেন বা দিকের লবিতে। স্বাক্ষর করলেন। আমরা সাধারণত: বা দিকের লবি দিয়েই যাতায়াত করতাম।

ডিভিশনের সময় আমরাও এলাম এই লবিতে। এ সময় দেখি নুরে আলম সিদ্দিকী সাহেব হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছেন। অধিবেশনে আসতে তার দেরী হয়ে গেছিল। ততক্ষণে ডিভিশন শুরু হয়ে গেছে। ডিভিশনের সময় অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি একটা গেট খুলে দিতে বললেন। বিরোধী সদস্যরা বললেন এটা তো না লবি। শুনে সিদ্দিকী সাহেব দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করলেন।

ডিভিশনের পর সবাই ফিরে এলেন অধিবেশন কক্ষে। বিল পাশের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সবাইকে বেশ উৎফুল্ল মনে হলো। অনেকেই গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানালেন, সিনিয়র কয়েকজন তার সাথে কোলাকুলি করলেন। শাহ মোয়াজ্জম হোসেনকে দেখলাম ছুটে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর পা ছুয়ে সালাম করলেন। ওবায়দুর রহমানও সম্ভবত: তাকে অনুসরন করলেন।

এর মাঝেই আমি চলে এলাম ট্রেজারি বেঞ্চ সংলগ্ন লবিতে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে তার মুখ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া নেয়া। এসে দেখি সেখানে বেশ ব্যস্ততা। স্টাফরা ছোটাছুটি করছে। গুঞ্জন শোনা গেল বঙ্গবন্ধু এখনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। লবিতেই একটা টেবিল লাগানো হলো। প্রেসিডেন্ট এলেন। অল্প সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্টের শপথ নিলেন।

অনেক দিন আগের স্মৃতি, সব স্পষ্ট মনেও নাই। এ্ই প্রথম ছাপার অক্ষরে লিখলাম। তবে চেষ্টা করেছি তা যেন অতিরঞ্জতার দোষে দুষ্ট না হয়।

 

সূত্রঃ http://www.sheershakagoj24.com/Comment-report/details/53752/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বাংলা ব্লগ, রাজনীতি, সংবিধান, স্বদেশ

একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিচারণ

সূত্রঃ http://www.sheershakagoj24.com/Comment-report/details/53752/একটি-ঐতিহাসিক-ঘটনার-স্মৃতিচারণ

লেখকঃ সাঈদ তারেক

আজ ২৫শে জানুয়ারি। ৪৪ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছিল সংবিধানের চতুথ সংশোধনী, যার মাধ্যমে দেশের রাজনীতির ধারার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। সব দল বিলুপ্ত হয়ে একটিমাত্র দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বলা যায় এই ঘটনা ছিল রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট। সাংবাদিকতার সুবাদে আমার সুযোগ হয়েছিল ঐতিহাসিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদশী হবার।

সংসদ ভবন তখন নাথালপাড়ায় (আজকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে স্পীকারের আসনের বা পাশে সে সময় ছোট একটি প্রেস বক্স ছিল। ১৫/১৬জন সাংবাদিক সেখানে বসতে পারতেন। সাধারনত এক কাগজ থেকে একজন এবং সিনিয়ররাই বসতেন সেখানে। অন্যরা ওপরে প্রেস গ্যালারিতে বসতেন। আমি তখন দৈনিক গণকন্ঠের রিপোটার। আসফদ্দৌলা ভাই, শাহ আলম ভাই, মোস্তফা জব্বার এবং আমি- প্রধানত এই চারজনই গণকন্ঠ থেকে পালা করে সংসদ অধিবেশন কাভার করি। আমি চেষ্টা করতাম অধিবেশন কক্ষের ভেতরের প্রেসবক্সে বসতে। কারণ ওখান থেকে অধিবেশন দেখলে মনে হতো বুঝি নিজেই অধিবেশনে বসে আছি। অন্য সিনিয়রদের মধ্যে যাদের কথা স্মরণ করতে পারছি তারা হচ্ছেন, আতিকুল আলম, আতাউস সামাদ, গিয়াস কামাল চৌধুরী, তোজাম্মল আলী তোজা ভাই, সম্ভবত: মাসির হোসেন হিরু ভাই, রিয়াজউদ্দিন আহমদ, অবজারভারের আতিক ভাই, ইত্তেফাক থেকে সম্ভবত: শফিকুল কবির। আরও অনেকেই বসতেন নীচের প্রেস বক্সে, সবার নাম মনে করতে পারছি না।
কয়েকদিন আগে থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল সংবিধানে আর একটা সংশোধনী আনা হচ্ছে। সব দল নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে, রাস্ট্রপতি পদ্ধতির শাষন কায়েম হবে, বঙ্গবন্ধু আজীবন প্রেসিডেন্ট হবেন। এসব নিয়ে পরিস্থিতি খানিকটা গুমোট ছিল। এর মধ্যে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হলো। যতদুর মনে পড়ে এর ওপর দিনদুই আলোচনাও হলো। আওয়ামী লীগের সাংসদরা বিলের পক্ষে বক্তৃতা করলেন।

বিরোধী গ্রুপের সাত সদস্য আতাউর রহমান খান, জাসদের মাইনুদ্দিন মানিক, আব্দুস সাত্তার, মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা এবং আরও দুই একজন বিলের সমালোচনা করলেন। কর্ণেল ওসমানী এবং ব্যরিস্টার মঈনুল হোসেন বিলের বিরোধিতা করলেন।

তবে বিলের সমালোচনা করে সবচাইতে সুন্দর বক্তৃতাটি করলেন এ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ( আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা)। প্রায় চল্লিশ মিনিট পিনপতন নিস্তব্ধতার মধ্যে সাবলীল ইংরাজিতে এই বিল কেন পাশ হওয়া উচিত নয় তার কারণগুলো ব্যখ্যা করলেন। আমি সেদিন নীচের প্রেসবক্সে। ট্রেজারী বেঞ্চ ছিল আমাদের মুখোমুখি। পনের বিশ গজ দুরেই প্রথম সারির কোনার সীটটায় বসতেন বঙ্গবন্ধু। সিরাজুল হক সাহেবের বক্তৃতার সময় সবার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিলাম।

বঙ্গবন্ধু বেশ মনোযোগ সহকারে শুনলেন। সব শেষে বঙ্গবন্ধু দাঁড়ালেন। বিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন। দেশের তৎকালীন পরিস্থিতিতে কেন একদলভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা দরকার তার কারণ ব্যখ্যা করলেন। সংসদ নেতার বক্তৃতার পর স্পীকার বিল ভোটে দিলেন। কন্ঠভোটে তা পাশ হলো। এরপর ডিভিশন। পক্ষের যারা তার ডান দিকের লবিতে গেলেন। বিপক্ষের কয়েকজন এলেন বা দিকের লবিতে। স্বাক্ষর করলেন।

আমরা সাধারণত: বা দিকের লবি দিয়েই যাতায়াত করতাম। ডিভিশনের সময় আমরাও এলাম এই লবিতে। এ সময় দেখি নুরে আলম সিদ্দিকী সাহেব হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছেন। অধিবেশনে আসতে তার দেরী হয়ে গেছিল। ততক্ষণে ডিভিশন শুরু হয়ে গেছে। ডিভিশনের সময় অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি একটা গেট খুলে দিতে বললেন। বিরোধী সদস্যরা বললেন এটা তো “না” লবি। শুনে সিদ্দিকী সাহেব দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করলেন।
ডিভিশনের পর সবাই ফিরে এলেন অধিবেশন কক্ষে। বিল পাশের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সবাইকে বেশ উৎফুল্ল মনে হলো। অনেকেই গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানালেন, সিনিয়র কয়েকজন তার সাথে কোলাকুলি করলেন। শাহ মোয়াজ্জম হোসেনকে দেখলাম ছুটে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর পা ছুয়ে সালাম করলেন। ওবায়দুর রহমানও সম্ভবত: তাকে অনুসরন করলেন।

এর মাঝেই আমি চলে এলাম ট্রেজারি বেঞ্চ সংলগ্ন লবিতে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে তার মুখ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া নেয়া। এসে দেখি সেখানে বেশ ব্যস্ততা। স্টাফরা ছোটাছুটি করছে। গুঞ্জন শোনা গেল বঙ্গবন্ধু এখনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। লবিতেই একটা টেবিল লাগানো হলো। প্রেসিডেন্ট এলেন। অল্প সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্টের শপথ নিলেন।

অনেক দিন আগের স্মৃতি, সব স্পষ্ট মনেও নাই। এ্ই প্রথম ছাপার অক্ষরে লিখলাম। তবে চেষ্টা করেছি তা যেন অতিরঞ্জতার দোষে দুষ্ট না হয়।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under রাজনীতি, সংবিধান, স্বদেশ

আমি পত্র লিখি তারই জন্য . . .

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মর্মে সরকারি তরফে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বয়ং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের নিকট চিঠির কপি বিলাচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত বেশিরভাগ মিডিয়া হৈ হুল্লোড় তরে প্রেসিডেন্ট ট্রম্পের চিঠি প্রদানের খবর প্রকাশ করেছে। শুক্রবার কয়েকটি মাধ্যম থেকে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কয়েকদফা যোগাযোগ করেও ট্রাম্পের উক্তর চিঠির সত্যতা মিলেনি বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে!

‘শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন’- একটি সংবাদ বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে সে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিতে জানতে চাওয়া হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নয়েল ক্লে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউএসআইডি’র পরিচালক মার্ক গ্রিনের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকের অবস্থানের কথা তোলে ধরে বিবৃতির কপি পূনরায় প্রেরণ করেন এবং এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন।

চিঠির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পূনরায় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দেয়া যে কোনো চিঠির বিষয়ে হোয়াইট হাউসে খোঁজ নিতে হবে।’

ট্রাম্পের চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা চিঠির বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে যে চিঠিটি নিয়ে সংবাদ তৈরি করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এটি চলতি মাসের ১৮ তারিখে ইস্যু করা। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একরকমের ধুম্রজাল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া চিঠিটিতে প্রচুর ভুল বানান, গ্রামার সমস্যা, এমনকি বার্মা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে দেশটি মিয়ানমার নামে পরিচিত। এতসব ভুলভ্রান্তি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউজের সত্যায়নের অভাবে পরিস্কার হয়ে গেছে- কথিত চিঠিটি বানোয়াট।

উল্লেখ্য, মার্ক গ্রিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের সঙ্গে করা বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগে পুর্নব্যক্ত করেছিলেন। নির্বাচনে কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট দেশটির হাতে রয়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বাংলা ব্লগ, মার্কিন নীতি, রাজনীতি, স্বদেশ

পরিবর্তন — যেটা এখন আমরা চাই| Change, That We Want

ভূমিকা।

সাম্প্রতিক কালে তরুণদের মনের দাবী থেকে শুরু হওয়া দুইটি আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে সেগুলোকে রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত করানোর চেষ্টা চলেছে। এটা খুব খারাপ লক্ষণ।

যাঁরা ছাত্রদের রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের কথায় মনে হয়েছে যে তরুণেরা দলের দাসত্ব করুক, সেটাই বরং তাঁদের বেশি প্রত্যাশিত। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি কেবল শিক্ষার্থীদের বিষয় ছিল না, ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দাবি। নাগরিক হিসেবে একজন তরুণ যদি এই আন্দোলনে অংশ নেন, তবে তাঁর রাজনৈতিক বা দলীয় সংশ্লিষ্টতাকে আক্রমণ করা আসলে নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘন। সেই অধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে যাঁরা অব্যাহতভাবে কথা বলেছেন ও বলছেন, তাঁরা একটা রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই কথা বলছেন, কিন্তু অন্যের জন্য তাঁরা সেই অধিকার রাখতে চান না। অথবা তাঁরা বলতে চান, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনৈতিক সক্রিয়তা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তা না হলেই তা অপরাধমূলক।

সাম্প্রতিক দুই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এমন প্রচারণার উদ্দেশ্য বিরাজনীতিকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা যে রাজনীতি একধরনের অস্পৃশ্য বিষয়। রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাঁদের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হতে হবে—এমন ধরনের ভীতি তৈরিও একটি উদ্দেশ্য বলেই মনে হয়। রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশ শাসনের চেষ্টা, কিংবা কেবল ক্ষমতাসীনদের রাজনীতিই সহনীয়, অন্যদের নয়—এই পদ্ধতিকে গণতন্ত্র বলে দাবি করার কোনো কারণ নেই।

তরুণদের একাংশের মধ্যে একসময় ‘আই হেট পলিটিকস’ বলার যে ফ্যাশন চালু করা হয়েছিল, তার বিপরীতে দাঁড়িয়েই তরুণেরা এইসব আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন যে বিরাজমান অবস্থার বদল ঘটাতে হলে, তা নিরাপদ সড়ক কিংবা চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্য—যা-ই হোক না কেন, পরিবর্তনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তারা আসলে সরকার ও শাসক দলের ভেতরে তফাৎটায় ভুলতে বসেছেন।

 

দুই।

কোনো কোনো কলামিস্ট অবশ্য কোনো ঘটনা স্বচক্ষে না দেখে কিংবা বিশ্বস্ত কারো কাছ থেকে টেলিফোনে না জেনে কোনো ঘটনা বিবৃত করেন না। জিয়া ও মুজিব পরিবারের অনেক ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী তিনি। প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার দৃশ্যে তিনি স্বশরীরে হাজির হয়ে যেতে পারেন। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাকে পাশে বসিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা কলেজের বাংলা প্রফেসরদের মতো একের পর এক আবৃত্তি করে যেতেন। বঙ্গবন্ধুর নাতি-নাতনীরা আজ যে একের পর এক বিদেশী বিয়ে করে যাচ্ছেন, সেই সুখস্বপ্ন কি বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই দেখে গিয়েছিলেন? রবি ঠাকুরের সেসব কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ রক্তকে আন্তর্জাতিক আবহে বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত তিনি রেখে গিয়েছিলেন- এমন কথাও হয়তো শুনতে হবে।

অন্য দিকে স্কুলজীবনে একটি অপরাধে জিয়াউর রহমান তার বড় সন্তান তারেক রহমানকে বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছিলেন, সেটিও নিজের চোখে দেখেছিলেন এই দেশবরেণ্য কলামিস্ট। কাজেই ১৫ আগস্ট সকালে খুনিদের প্রাতঃরাশ খাইয়েছিলেন বেগম জিয়া, সেটিও দেখবেন না তা কী করে হয়? সে দিন তার সাথে ছিলেন হয়তো প্রয়াত কয়েকজন। এসব স্পর্শকাতর ঘটনায় মৃতদের নাম উল্লেখ করলেও জীবিতদের নিরাপত্তার স্বার্থেই কখনো তাদের নাম উল্লেখ করা হয় না। সেই ঘটনাকে আরেকটু বিশ্বাসযোগ্য বানানোর জন্য দরকার পড়বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জনৈক সদস্য।

এবিএম মূসার শেষ জীবনে একটি কথিত বিচ্যুতি ঘটেছিল। তখন জামায়াত-বিএনপির অনেকের সাথে তার সখ্য সৃষ্টি হয়েছিল। মূসা সে সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সেই সদস্যের কাছে এই ঘটনা বর্ণনা করে গিয়েছিলেন। বিএনপি নেতৃত্বের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে এই কথাগুলো তিনি ‘প্রকাশ্যে বলার সাহস পাননি’ বলে গোপনে জানিয়েছিলেন। এভাবেই চেতনার আলোকে নতুন আরেকটি ইতিহাস লেখা হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি হিসেবে নিজেকে দাবি করেন তবে এ কথার ওপর বাই ডিফল্ট আস্থা রাখতে হবে।

 

তিন।

আওয়ামী লীগের নতুন ঘরানার কিছু বুদ্ধিজীবী ও পরামর্শকের বদৌলতে নতুন প্রজন্ম কোন দিকে মোড় নিয়েছে, তার কিছু আলামত দেখা গেছে দু’টি ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ক্রিকেটের উন্মাদনা দিয়েও তখন তাদের মনোযোগ ডাইভার্ট করা যায়নি।

সরকার বলতে চাচ্ছে, শহিদুল আলম সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের উসকানি দিয়েছেন। ১১ জন নোবেল লরিয়েটসহ ২৩ জন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি শহিদুল আলম ও গ্রেফতারকৃত ছাত্রছাত্রীদের অনতিবিলম্বে মুক্তিদানের আবেদন জানিয়েছেন। কোনটি উসকানি আর কোনটি গণজোয়ার এটি বুঝতে অক্ষম নাবালকদের কাছে এগুলোও হয়তো উসকানি বলে মনে হবে।

সরকারের বিরুদ্ধে ‘উসকানি ‘ দেয়া মহাপাপ। সরকারের অনেকগুলো যন্তরমন্তর ঘর থেকে এই বাণীগুলো প্রচার করা হচ্ছে। তা থেকে বিশ্বাস জন্মে যে, বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মতো সুবোধ দল পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সেই পাকিস্তান আমল থেকে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের আন্দোলন করেছে; কিন্তু কখনোই সরকারের বিরুদ্ধে কোনোরূপ উসকানি দেয়নি। চেয়ার দিয়ে স্পিকার শাহেদ আলীকে অক্কা পাইয়ে পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসনের উসকানির সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিরোধী দল হিসেবে এই সুবোধ-শান্ত আওয়ামী লীগ কোনো দিন রাস্তায় ভাঙচুর করেনি। অফিসগামী লোকদের দিগম্বর করেনি। একটি মাত্র দাবির জন্য ৩০০ দিনের বেশি হরতাল তারা করেনি। যাত্রীবাহী বাসে আগুন তারা দেয়নি। বিভিন্ন আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য কোনো দিন কোনো অতিরঞ্জিত কথা বলেনি। এগুলো সব গুজব, এগুলো সব মিথ্যা প্রচারণা।

বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এই ইতিহাস কিংবদন্তি হয়ে আছে। বিরোধী দল হিসেবে তাদের সংযম আমরা দেখেছি দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনায়। সেই সংযম দেখা গেছে এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়, কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে নাগরিক আন্দোলনের মুহূর্তে।

শুধু আওয়ামী লীগ কেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে যে সংগঠনটি রয়েছে তার কলাকুশলীরা ব্যক্তিগতভাবে গত ৫০ বছর ধরে অনেক অনেক সংযম দেখিয়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি হবে বিবেচনায় এই প্রিয় মুখগুলো কোনো দিন রাস্তায় নামেননি। শহিদুল আলমের উচিত ছিল এসব প্রকৃত জ্ঞানী-গুণীর পদাঙ্ক অনুসরণ করা।

শহিদুল আলম যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিয়েছিলেন, তখন তিনি সবুর খানের বংশধর ছিলেন না। আজ ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ায় সেই পরিচয়টি বড় হয়ে উঠেছে। ‘রাজাকারের বাচ্চা’রা যেমন কোটা সংস্কার আন্দোলন করে, তেমনি এ দেশে বুঝি সবুর খানের বংশধরেরাই শুধু নিরাপদ সড়ক চায়। এ বিষয়গুলোও সবুর খানের রক্ত নিয়ে যারা চেতনার অংশীদার হতে চান, তাদেরকে স্মরণে রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা তাদের কর্মীবাহিনীকে ঘূণাক্ষরেও লগিবৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসতে বলেননি। বরং সব সময় বলেছেন, বেলি ফুলের মালা হাতে নিয়ে আসতে। এক লাশের বদলে ১০ লাশের কথা কখনোই বলা হয়নি। বরং এক গালে থাপ্পড় খেলে অন্য গাল এগিয়ে দিতে বলা হয়েছিল।

ক্ষমতায় এসে তারা আরো গণতান্ত্রিক হয়ে পড়েছেন। বিরোধী দলগুলোকে ফুলের মালা পরিয়ে কিংবা ওবায়দুল কাদেররা চুম্বন দিয়ে গণতন্ত্রকে সুসংহত করে ফেলেছেন।

এ দিকে নিরাকার আল্লাহকে খুশি করার জন্য তারা দুনিয়াবি সনদের যে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাতে ‘দুনিয়ার ভগবানেরা’ও অখুশি হননি। বরং সাগরেদদের বুদ্ধির চমক দেখে উৎফুল্ল হয়ে পড়েছেন। একদা যারা টক তেঁতুল হুজুর ছিলেন, তারাও আজ খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা শুরু করে দিয়েছেন। মাশাআল্লাহ, তেঁতুল তত্ত্বের প্রবক্তা নারীরাও মরিচের গুঁড়া হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত। একেই বলে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।’

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বাংলা ব্লগ, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, স্বদেশ

সামাজিক অবস্থার উন্নতি

দেশে কিছু বড় উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ইত্যাদি এখন বাংলাদেশের গর্ব। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু একটা বিষয় আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তা হল সামাজিক অবস্থা। মানুষে মানুষে আন্তরিকতা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আস্থা ইত্যাদি সামাজিক অবস্থার মানদণ্ড। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল শর্ত না হলেও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার এগুলো।

সামাজিক অবস্থার নানা দিক রয়েছে। যেমন সামাজিক পুঁজি, মূল্যবোধ, জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ইত্যাদি। প্রথমেই আসা যাক সামাজিক পুঁজির কথায়। সামাজিক পুঁজি হল পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, আন্তরিকতা ইত্যাদি। দেশে এটির অবস্থা সন্তোষজনক নয়। ক্ষুদ্রব্যবসা, এনজিও, গ্রামাঞ্চলের কারবার ইত্যাদি চলে আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর। আস্থা ও বিশ্বাস সমাজ থেকে উঠে গেলে সমাজে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। দরিদ্র মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। সামাজিক নৈরাজ্য ও অর্থনৈতিক পতন ঠেকানো সম্ভব হয় না, যদি সামাজিক পুঁজি না বাড়ে।

সম্প্রতি এডুকেশন ওয়াচের একটি রিপোর্ট আমাদের রেড সিগন্যাল দিচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা আর অনুকরণীয় নয়। প্রাথমিকে অর্ধেক, মাধ্যমিকে দুই-তৃতীয়াংশ আর উচ্চশিক্ষা স্তরে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী নৈতিকতার ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষকদের অনুকরণীয় ব্যক্তি মনে করেন না। আগামীতে যে জনবল যাদের অনুসরণ করে অর্থনীতির চাকা সচল করার দায়িত্ব নেবে তারাই আজ অনাস্থার পাত্র। বিষয়টি শুধু উদ্বেগের নয়, হুমকিরও বটে।

মানুষের নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গণপরিবহনে যাতায়াত করেন এমন ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার, যা আমাদের অর্থনীতির জন্য বিশাল হুমকি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশের অর্থনীতির স্তম্ভ তৈরি পোশাক শিল্প নারীর হাত ধরে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু নারী যদি নিরাপদে কর্মস্থলে যেতে না পারে, তাহলে তারা কর্মস্থলে আসবে না। তখন দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। কিছুদিন আগে আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ৫০ ভাগের বেশি মানুষ সংবাদমাধ্যমের খবর বিশ্বাস করে না। সামাজিক অবস্থার আরেকটি হুমকির চিত্র এটি। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা কতটুকু তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই। তবে এগুলোর অবস্থাও যদি করুণ হয় তবে সমাজ গোল্লায় যাবে। নৈরাজ্য ঠেকানো সম্ভব হবে না তখন। মানুষ ধর্ষণের শিকার, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও শোষিত হয়েও মামলা করবে না বিচার না পাওয়ার শঙ্কায়।

জাতিসংঘের একটি রিপোর্ট পেশ করে ইতি টানব। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১. বাংলাদেশের সুশীলসমাজ ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে; ২. যথেষ্ট স্বাধীন নয় মানবাধিকার। সামাজিক ন্যায়বিচার, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস না বাড়লে সমাজে নৈরাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা পাবে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সরকারেরও এ বিষয়ে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন।

 

[লেখাটি সংগৃহীত এবং ঈষৎ পরিবর্তিত]

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under অর্থনীতি, বাংলা ব্লগ

BS-1 নিয়ে আমাদের কোন লাভ কি হবে?

বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অপারেটর ভাড়া বাবদ প্রতিবছর বিদেশি কোম্পানিকে ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করতে হয়। এই টাকা বাঁচানোর কথা বলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নিজস্ব স্যাটেলাইট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের এই নিজস্ব স্যাটেলাইটের নাম দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। কয়েক দফা পিছিয়ে আগামী এপ্রিল মাসে এটা উৎক্ষেপন করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

সরকারের দাবি, এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন সফল হলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। আর বেঁচে যাওয়া বাকী তরঙ্গ বিভিন্ন দেশে ভাড়া দেয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করবে বাংলাদেশ। তবে, দিন যত যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্যাটেলাইট নির্মাণের সরকারের আসল উদ্দেশ্য ততই বেরিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে তার কিছু বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে।

জানা গেছে, এই স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রকল্পটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্প। রাষ্ট্রীয় অর্থ বয়ে এটা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিটিআরসির অধীনেই এর নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। কিন্তু, সরকার কৌশলে এই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমানের হাতেই দিয়েছে। যার মাধ্যমে সরকার ইতিপূর্বে শেয়ারবাজার থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিটিআরসির নিকট থেকে ফ্রিকোয়েন্সি নিতে হয়। এই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সালমান এফ রহমানের কোম্পানি বেক্সিমকোকে দেয়ার কারণে টিভি চ্যানেলগুলোকে এখন থেকে বেক্সিমকো থেকে ফ্রিকোয়েন্সি নিতে হবে। তাই ফ্রিকোয়েন্সি বাবদ যত আয় হবে সবই যাবে বেক্সিমকোর কোষাগারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় এত বড় একটি প্রকল্প বেসরকারি কোম্পানিকে দেয়ার ক্ষেত্রেও কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। কোনো টেন্ডার ছাড়াই সরকার বেক্সিমকোকে এটা দিয়েছে। এমনকি বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদও স্বীকার করেছেন যে এটা কীভাবে বেক্সিমকোকে দিয়েছে তিনিও জানেন না।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডার ছাড়াই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেক্সিমকোকে দেয়ার পেছনে যিনি পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়েছেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়। মূলত জয়ের নির্দেশেই তথ্যমন্ত্রণালয় কোনো প্রকার টেন্ডার আহ্বান করা ছাড়াই বেক্সিমকোকে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছে।

 বেসরকারি টিভি ও ইন্টারনেটের ডাটা ফ্রিকুয়েন্সির জন্য কোম্পানিগুলোকে দরবেশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। যার নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা ছিল তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির অধীনে। প্রাপ্ত টাকার বড় একটি অংশ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা না হয়ে শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের পকেটে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্যাটেলাইট পাঠানোর পূর্ব মুহূর্তে সরকারের আরেক বড় ধরণের প্রতারণা ফাঁস হয়েছে। এদেশের মানুষ জানতো স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা লাগানো থাকবে। এতদিন ধরে এটাই প্রচার করা হচ্ছে। জাতীয় পতাকা সম্বলিত স্যাটেলাইটের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু, বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে জানানো হলো যে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সংযুক্ত কোনো ছবি কিংবা পতাকার নকশাও থাকছে না। পতাকার বদলে স্যাটেলাইটের গায়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা রয়েছে।

এ বিষয়ে তারানা হালিম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকাওয়ালা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যে ছবিটি ঘুরছে সেটা প্রকৃত ছবি নয়।

তারানা হালিম বলেন, ‘আমি যখন স্যাটেলাইটটি সর্বশেষ (নির্মাণ শেষে) দেখতে আসি তখন থ্যালেস অ্যালেনিয়া বলে স্যাটেলাইটের গায়ে নাম লিখে সই করতে। আমি তাদেরকে বলি সই করার একমাত্র অধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু তারা আমাকে কিছু একটা লিখতে বলেন। তখন আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে এটি (জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু) হাতে লিখে দেই। সেই লেখাটি স্যাটেলাইটের গায়ে থাকছে।’

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ বলছেন, ‘জয় বাংলা আর জয় বঙ্গবন্ধু’ আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান। আর স্যাটেলাইট এটি রাষ্ট্রের সম্পদ। কারণ, রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে এটা নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে লেখা থাকবে বাংলাদেশের নাম। থাকবে দেশের পতাকা। কিন্তু, সরকার এটা না করে তাদের দলীয় স্লোগান স্যাটেলাইটের গায়ে লিখে দেশবাসীর সঙ্গে বড় ধরণের প্রতারণা করেছে। কেউ কেউ বলছেন, মহাকাশে বাংলাদেশ যাচ্ছে না। যাচ্ছে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান জয় বাংলা।

মহাকাশে যে কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে, তা দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশের যেখানে স্থাপন করা হবে, তা দিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under অর্থনীতি, স্বদেশ, Technology