একটি বিসিএস জাতি

আমরা একটি বিসিএস জাতি।

ভারত চাঁদে মহাকাশযান পাঠায়।
আমরা সেই চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণের তারিখ, খরচ, ওজন ইত্যাদি সব বিষয় মুখস্থ করে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হই।

স্বপ্নের সীমা শেষ।

এরপরে সুন্দরী বউ, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া সন্তান, সরকারি লোনে বাড়ি-গাড়ি — ব্যস হয়ে গেল। এর চেয়ে বেশি আর কি চাইবার আছে?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under Uncategorized

তিন বেলার খাবার হবে ব্যালান্স ডায়েটসমৃদ্ধ। আর্থাত্ কার্বোহাইড্রেটস, প্রোটিন, ফাইবার যেন সঠিক পরিমাণে থাকে। ভালো ফল পেতে প্রোটিন দিয়ে খাবার শুরু করুন। অল্প ভাত বা রুটির সঙ্গে প্রথমে সবজি না খেয়ে মাছ, মাংস বা ডাল খান। সবজি বা সালাদ খান শেষে। সকালের খাবার হবে সবচেয়ে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ। দিনের মেন্যুতে মাংস থাকলে তা সকালেই খেয়ে নিন। দুপুরে ও রাতে মাছ, ডিম আর ডাল রাখুন। রাত ৮টার পর কোনো ধরনের শর্করা খাবেন না। ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় সব ধরনের খাবার যেমন—কেক, পেস্ট্রি, চকোলেট, কোল্ড ড্রিংকস, চিনি দেওয়া জুস, মিষ্টি খাবার তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিন। খাবারের সঙ্গে আলাদাভাবে চিনি বা কাঁচা লবণ খাবেন না। সঠিক ওজনে ফেরত আসতে বেশি করে ফল আর সালাদ খান। কম সময়ে ওজন কমাতে নিরাপদ ডায়েটের জন্য পুুষ্টিবিদরা প্রতিদিন অন্তত পাঁচ সার্ভিং ফল ও সালাদ খাওয়ার পরামর্শ দেন। আধা বাটি সালাদ এক সার্ভিং হিসেবে ধরা হয়। তিন বেলার মূল খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে তেলে ভাজা স্ন্যাকস বা মিষ্টিজাতীয় খাবার না খেয়ে মৌসুমি টক ফল ও সবজির মিক্সড সালাদ খান। লেবুর রস আর মধু দিয়ে সালাদের ড্রেসিং করতে পারেন। মেয়নেজ বা ক্রিমজাতীয় ড্রেসিং বাদ দিন। দ্রুত ওজন কমাতে ভাতের পাশাপাশি আলু খাওয়াও বাদ দিন। তবে সপ্তাহে এক-আধ বেলা তো মন চাইতেই পারে; কিন্তু প্রতিদিন নয়। এ ছাড়া দৈনিক খাবারে তেলের পরিমাণ যেন দুই চামচের বেশি না হয়। তেলে ভাজা খাবারের কথা বেমালুম ভুলে যান। অল্প তেলে ওভেন বেকড করা খাবার খান। সর তোলা ননিবিহীন দুধ খাবেন। টক দই বা ঘোলও খেতে পারেন। এতে ক্যালসিয়ামের চাহিদা যেমন পূরণ হবে আবার ফ্যাটের ভয়ও থাকবে না। চা বা কফি খেতেই পারেন, তবে অবশ্য দুধ আর চিনি ছাড়া। তিন বেলার খাবারের পরেই চা, কফি খাবেন না। খাবারের পর ঘণ্টাখানেক বিরতি দিয়ে চা, কফি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করুন। এতে পেট ভরা মনে হবে আর শরীর আর্দ্র থাকবে। দেহের পরিপাকপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমান। বাড়তি ক্যালরি বা মেদ ঝরাতে শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক ওজনের সঙ্গে এটি আপনার সুস্থতাও নিশ্চিত করবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করে ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করুন। জিমে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। সাঁতার কাটা বা সাইক্লিং হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ ব্যায়াম।

 

(সূত্র: https://www.kalerkantho.com/feature/a2z/2019/09/02/810077)

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বাংলা ব্লগ, Uncategorized

সাফল্যের সূত্র

সফলতা সবার কাছেই কাঙ্ক্ষিত একটি শব্দ। কিন্তু সাফল্য বা সফল হওয়া মানেই বা কী? অর্থ, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, সম্মান, পরিচিতি বা কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ইত্যাদি অর্জনই কি সাফল্য। নাকি এর মানে আরও অন্য কিছু? ধনাঢ্য আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি যদি দিন শেষে অসুখী বা নিজেকে নিয়ে অতৃপ্ত থাকেন, তাঁকে কি খুব একটা সফল বলা যায়?

আসলে সফলতা শব্দটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যেই খুব ব্যক্তিগত এবং একেকজনের কাছে একেক রকম। তবে বলা যায়, প্রতিটি মানুষই যে অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নেয় সে সম্ভবনার বিকাশ, জীবনযাপনে এর প্রয়োগ এবং পরিতৃপ্তিবোধ থাকা সফল মানুষের জীবনযাপনের মাপকাঠি।

অর্থাৎ সফলতা মানে ব্যক্তির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। সফল মানুষ তার পেশাগত জীবন, সম্পর্ক ও জীবনজাপন নিয়ে পরিতৃপ্ত ও পরিপূর্ণতা বোধ করে এবং তার কাজ সমাজে বা অন্যদের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

 

সফলতার সূত্র
সফলতার আসলেই কি কোন সূত্র আছে? হ্যাঁ, আছে।

আমাদের অনেকের ধারণা ব্যক্তির ‘মেধা’ বা ‘বুদ্ধাঙ্ক’ই (আইকিউ) সফলতার মূল শর্ত। অর্থাৎ মেধাবী ব্যক্তিমাত্রই সফলতানামক কাঙ্ক্ষিত শব্দটির দেখা পায়। কিন্তু মেধার চেয়ে আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তির জীবন ও নিজেকে দেখার ধরন, চাপ মোকাবিলার ক্ষমতা, দূরদর্শিতা, আত্মবিশ্বাস, চিন্তা–আবেগের ধরন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে মানুষের ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। মেধার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিত্বের ধরন কঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তির চিন্তার ধরন, ইতিবাচক জীবনবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিজের ও কাজের প্রতি বিশ্বাস ইত্যাদি নানা কিছুই তাকে অনেকের মধ্যে অনন্য করে তোলে। অনন্য এই বৈশিষ্ট্যই তৈরি করে সফলতার সূত্র।

লক্ষ্য নির্ধারণ
সফলতার সহজসরল মানে হলো লক্ষ্য পূরণ হওয়া। সুতরাং জীবনে আপনি নিজেকে কীভাবে দেখতে চান অথবা অন্যরা আপনাকে কীভাবে মনে রাখবে প্রথমে সেটা বের করুন। অন্যরা আপনার কাছে কী চায় সেটার চেয়ে আপনি কী ভালোবাসেন বা আপনি কী চান অথবা কোন কাজটিতে আপনি দক্ষ, সেটাকে গুরুত্ব দিন। যে কাজটি আপনি ভালোবাসেন না বা আনন্দ পান না, যে কাজে আপনার বিশ্বাস নেই, সে কাজ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে কিন্তু সে কাজে সফলতার দেখা পাওয়া কঠিন।

সামাজিক দক্ষতা বাড়ান
সামাজিক দক্ষতা মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ায় এবং শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখে। সফলতার কঠিন পথটি কিছুটা সহজ হয়, যদি সামাজিক যোগাযোগ বা গ্রহণযোগ্যতা ভালো থাকে। মানুষের মাধ্যমেই আমরা নানা কাজ পাই, নানা ধরনের সুযোগ বেশির ভাগই কারও না কারও হাত ধরেই আসে। সামাজিক নেটওয়ার্ক একধরনের নিরাপত্তাবোধ দেয় তাই না, আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সমস্যা মোকাবিলায় সাহস জোগায়।
শুধু তাই না, মানুষের সান্নিধ্য আমাদের মনোজগতের নতুন নতুন জানালা খুলতে সাহায্য করে, নিজেকে বুঝতে সাহায্য করে। দিশেহারা বোধ করলে বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে সাহায্য করে।

সামাজিক দক্ষতা বাড়ানোর একমাত্র পথ হলো সামাজিক মেলামেশা। সুতরাং পুরোনো সম্পর্কগুলো আরও জোরদার করুন। সম্পর্কের ছোটখাটো অপূর্ণতা মেনে নিন। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মিশুন, সময় দিন, তাদের জানুন, নিজেকে জানান।

অন্যকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন
নিজের কোনো ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ওপর চাপানো সহজ হলেও এটা আপনার জীবনে কোনো পরিবর্তন আনবে না। জীবনে ভালোমন্দ যেকোনো ঘটনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার মনোভাব সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত। অর্থাৎ আপনার জীবনের অর্জন, সম্পর্কের গুণগত অবস্থা, পেশাগত অবস্থান, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা সবকিছুর ক্ষেত্রে অন্যের ওপর দোষ না চাপিয়ে দায়ভার নিজের কাঁধে নিন।

আপনার জীবনের দায়ভার অন্যের ওপর চাপানো মানে আপনার জীবনের ভালোমন্দের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে দিয়ে দেওয়া। আপনার জীবনে পরিবর্তন আনতে পারেন শুধু ‘আপনি’। সুতারাং কোনো কিছুর পরিবর্তন চাইলে প্রথমে আপনাকে পরিবর্তন করুন। পরিবর্তন করুন আপনার চিন্তা, আপনার আচরণ, আপনার কৌশল, আপনার মনোভাব, আপনার কাজের ধরন, আপনার ব্যবহার। আর এসব আপনার নিয়ন্ত্রণেই আছে।

তবে বিষয়টা এত সহজ নয়, নিজের ওপর দায়িত্ব নেওয়া এত সহজ নয়। এর মানে নিজের বহু দিনের অভ্যাস পরিবর্তন করার সাহস। সুতরাং প্রয়োজনে বর্তমান চাকরি ছেড়ে নতুন ভালো কিছু খুঁজুন। সম্পর্কে জটিলতা নিয়ে অস্বস্তি ঝেড়ে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন। ইনটিউশন বা গাট ফিলিংকে বিশ্বাস করুন। অন্যের সাহায্য চান। অন্যকে সাহায্য করুন। বন্ধুদের চাপে ‘না’ বলতে শিখুন। শরীরের যত্নে হাটা শুরু করুন, পড়ালেখায় সময় দিন ইত্যাদি।

মানসিক প্রস্তুতি
মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, যা আমাদের যেকোনো বিষয় সহজভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করে বা অতিরিক্ত মুষড়ে পড়া থেকে বাধা দেয়। যেকোনো চ্যালেঞ্জের ভালোমন্দ নানা রকম ফলাফল যে হতে পারে সে মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। শুধু তাই না, সফলতার চূড়ায় থাকা মানেই কিন্তু স্থায়ী অবস্থান না। অনুকূল অবস্থা যেকোনো সময়ে প্রতিকূল হতে পারে সেটা মনে রাখা জরুরি।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সময় ভালো খারাপ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভালোমন্দ যেকোনো কিছুই সহজভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা আমদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

মাঝেমধ্যে থামুন, সতর্কীকরণ সংকেতকে গুরুত্ব দিন
সাফল্যের পদযাত্রায় নানা কিছুর হাতছানির ফাঁদ আপনার জীবনে আসবে। এসব ফাঁদ অনেক সময় আপনাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। যেমন, আপনি হয়তো দক্ষ চিকিৎসক হতে চান কিন্তু চলার পথে অর্থের হাতছানি আপনার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। সুতরাং অর্থের এ হাতছানি কতটুকু আপনি গ্রহণ করবেন, সেটা আপনাকে বের করতে হবে।

মনে রাখবেন জীবন নানাভাবেই আপনাকে আপনার কাজের ফিডব্যাক দেবে। সুতরাং ব্যস্ততার মাঝে মাঝে থামুন এবং চারপাশে মনোযোগ দিন। ব্যবসার অবনতি, গ্রেড কমে যাওয়া, সম্পর্কের অবনতি, শরীর–মন খারাপ লাগা, কাজকর্মে জট পাকিয়ে যাওয়া সবকিছুই জীবনের একরকম ‘সতর্কীকরণ সংকেত’ যা আপনাকে এসব বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে বলে।

ব্যর্থতাকে সহজে গ্রহণ করুন, লেগে থাকুন
আপনার জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে যাওয়ার পথ সব সময় আপনার অনুকূলে থাকবে না। মাঝে মাঝে আপনি হোঁচট খাবেন অথবা পড়ে যাবেন বা ব্যর্থ হবেন। কোনো বিষয়ে সফলতার স্বাদ পেতে হলে শত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও লেগে থাকুন। এই লেগে থাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছোট-বড় নানা রকম ব্যর্থতা, মানুষের ভুলত্রুটি, নিরুৎসাহ ইত্যাদি নানা কিছু। এসব বাধাকে স্বাভাবিকভাবে ধরে নিয়ে যে যত ক্রমাগত নিজের কাজ করে যাবে, কঙ্ক্ষিত ফলাফলের দিকে সে তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। ব্যর্থতা নিয়ে মুষড়ে পড়ে থাকা বা এ নিয়ে মন ছোট করে থাকা মানে আপনার সাফল্যের পথে অযথা সময়ক্ষেপণ করা। উপেক্ষা শব্দটি সহজ হলেও এটা জীবনে প্রয়োগ করা অনেক সময় কঠিন। লক্ষ্যের প্রতি অবিচল আস্থা, ভালোবাসা, বিশ্বাস এসব উপেক্ষা করতে শেখায়।

শেষ কথা
লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে যে সফলতার কথা বলা হচ্ছে, সেটা জীবনখেলার একটা অংশমাত্র। এ খেলায় সব সময় আপনার পায়ে বল থাকবে বা আপনি সামনে যেতে থাকবেন, তা না–ও হতে পারে। খেলায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেমন মাঝে মাঝে ব্যাকফুটে যেতে হয়, মাঝে মাঝে অন্যের পায়ে বল দিয়ে দিতে হয়, এখানেও তাই। সুতরাং অভীষ্ট লক্ষ্যে যেতে মাঝে মাঝে প্রয়োজনে ব্যাকফুটে যান। অন্যকে সুযোগ করে দিন। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বিরতি নিন। পর্যবেক্ষণ করুন, স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল পরিবর্তন করুন।

জীবনের পথে চলা কিন্তু ১০০ মিটার রেস না, যেখানে নির্দিষ্ট দূরত্বে যেতে অনেকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রথম দ্বিতীয় হতে হয়। এটা একটা ম্যারাথন দৌড়ের মতো, যেখানে আপনি কত দূর পৌঁছাতে পারলেন, কতক্ষণ টিকে থাকলেন সেটা মুখ্য। এই লম্বা রেসে মাঝে মাঝে আপনি সহযাত্রীর কাছ থেকে পিছিয়ে যাবেন, কখনো সমানতালে চলবেন, আবার কখনো সামনে এগোবেন। এখানে আপনি কার থেকে আগে বা পিছে গেলেন, সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না বরং এই লম্বা পথে আপনি কত দূর টিকে থাকতে পারলেন সেটাই আসল। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার মনোবল, আপনার ইচ্ছাশক্তি, চলার পথে সাময়িক ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা, সবকিছুই আপনাকে একসময় সামনে নিয়ে যাবে।

মনে রাখা প্রয়োজন, সাফল্য কিন্তু সুখ বা আনন্দের চাবিকাঠি নয়, তবে সুখ বা আনন্দ সাফল্যের অন্যতম উপাদান। সুতরাং যে কাজ আপনি ভালোবাসেন সেটাতে লেগে থাকুন। সাফল্য আপনার ভালোবাসার পথ ধরে আসবেই।

 

(সূত্র: https://www.prothomalo.com/nagorik-sangbad/article/1613588/সাফল্যের-সূত্র)

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under বাংলা ব্লগ, Technology

উন্নয়নের ধারা [2]

“ভারত নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিজ্ঞানী বানায়, তারপর তারা নিজেদের টাকায় চাদে নভোযান পাঠায়, তারা প্রথমবার সফল হয় না, কিন্তু এটা নিশ্চিত তারা ২য় বার কিংবা ৩য় বার কিংবা ১০০তম বারে সফল হবে।
ভারতের পাশের দেশ বাংলাদেশ, সেখানে ছেলেমেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, ক্লাশের পরে লাইব্রেরীতে বিসিএস গাইড মুখস্ত করে। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিসিএস কোচিং সেন্টার হয় বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর তারা বিজ্ঞানী হয়না, হয় ক্যাডার। তারপর তারা মনে করে ৪০০ টাকার স্পেয়ার পার্টস নিজেদের দেশে না বানিয়ে ৪ কোটি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে আনাই সফলতা। এতে অন্তত সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিজের পকেটে নেওয়া যাবে। আবার সেই দেশের কেউ কেউ বিজ্ঞানী হওয়ার চেষ্টা করে, সফলও হয়, পুরস্কার পায়, পুরস্কার নিতে গেলে দেখে তাদের ভিসা হয়নি। ভিসা হয়েছে তার দেশের বিসিএস আমলাদের। তারা দেশ বিদেশ ঘুরে সেই উঠতি বিজ্ঞানীর পুরস্কারটা গ্রহণ করে। তারপর সেই বিজ্ঞানী রাগে ক্ষোভে অন্য দেশে পাড়ি জমায়।
তারপরে সেই বিজ্ঞানী যখন বিদেশে তার যোগ্য রেকগনিশন পাওয়া শুরু করে তখন বাংলাদেশ থেকে তাদের ‘উফফ বাংলার সন্তান, উই আর প্রাউড স্যার’ বলে গর্ব করা হয়, এভাবেই দেশের উন্নয়ন হয়।”
( সংগৃহীত)

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under অর্থনীতি, বাংলা ব্লগ, রাজনীতি, স্বদেশ

উন্নয়নের ধারা

২০১২ সালের কথা! তখন ভেনিজুয়েলার জিডিপি ছিল ৫.৬৩%। জনসংখ্যার মাত্র ২০% দারিদ্র‍্য সীমার নিচে। সৌদি আরবের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল মজুদ দেশটির!
চীন তখন দেশটির খুব কাছের বন্ধু। শক্তিশালী অর্থনীতি! এত তেলের মজুদ! আমেরিকাও ওকে ঘাটাতে চাইতো না!
তারপর ২০১৯ সাল। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে। কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা যুদ্ধ ছাড়াই দেশটি এখন বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। যার পরবর্তী ধাপটির নাম দূর্ভিক্ষ!
মূদ্রাস্ফীতি ৮০,০০০% অতিক্রম করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ এ তা ১০০,০০০% অতিক্রম করবে।
এই সংকটের প্রধান কারণ বলা হচ্ছে দুটি-
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থের হিসাবে প্রতিনিয়ত গরমিল।
২. ডাচ ডিজিজ।
ডাচ ডিজিজ রোগটা যেকোনো দেশের জন্য বেশ ভয়ঙ্কর। এই রোগের লক্ষণ ৩টি-
১. দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০% আসবে কোনো একটা নির্দিষ্ট সেক্টর থেকে।
২. জিডিপি বাড়তে থাকবে খুবই দ্রুত। মানুষ তার জীবনযাত্রার মান বাড়াবে। শ্রমিক তার বেতন বাড়াবে আরো সুখে থাকার আশায়। তাদের জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে আমদানি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে উঠতে থাকবে।
৩. সমাজের ক্ষুদ্র একটা অংশ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে আর সিংহভাগ মানুষের সম্পদ, উপার্জন কমতে থাকবে।
এই সুখের সংসার ততদিনই টিকে থাকবে, যতদিন একটি নির্দিষ্ট সেক্টর দেশকে ৮০% আর্থিক সাপোর্ট দিতে থাকবে।
ভেনিজুয়েলার ৮০%-ই আসতো তাদের তেল রপ্তানি থেকে। ২০১৪ সালে আরব বসন্তের ঝাকুনিতে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমার সাথে সাথেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাদের এত দিনের শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি!
বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ রেট এখন ৮% এর উপরে (সরকারি হিসেব)। রপ্তানি আয়ের ৮১%-ই আসে গার্মেন্টস থেকে। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও অন্য যেকোনো দেশের চাইতে বেশি!
এদেশেও ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। বিনিয়োগও হচ্ছে বাইরের দেশে। আবার ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির তালিকাতেও ১ নম্বরে বাংলাদেশ! সবচেয়ে বেশি আয় বৈষম্যের দেশের তালিকাতেও বাংলাদেশ উপরের দিকে!
অর্থাৎ আমরা অলরেডি ডাচ ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে গেছি! এখন দরকার সামান্য একটা ধাক্কা, তাতেই…
এই ধাক্কাটা নানাভাবেই আসতে পারে।
নিম্নতর মজুরিতে চীনও এখন আর বাংলাদেশের সাথে পেরে উঠছে না। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও পারছে না। তার উপর চলছে আমেরিকার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ। যেকারণে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে অর্ডার আসছে। আগামী বছরগুলোতে এর পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। ফলে আয় বাড়বে। মানুষের লাইফস্টাইল আরো উন্নত হবে।
কতদিন চলবে এমন সুদিন? আমাদের এই সেক্টরের ভবিষ্যত কী সুরক্ষিত?
অবশ্যই না। এই সেক্টরটা বেদুইনদের মত একদেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ায় এর বেঁচে থাকা নির্ভর করছে ২টি বিষয়ের উপর-
১) Low making cost
২) Low shipment cost
চীন আফ্রিকার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলাকে দখল করে নিচ্ছে। এ বছরেও ৫০ বিলিয়ন ডলার লোন দিয়েছে শুধু আফ্রিকার দেশগুলোর অবকাঠামো ঠিক করার জন্য। সেসব কাজের ঠিকাদারি করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোই। বেশ জোরেশোরেই চলছে নির্মাণ যজ্ঞ। বড় বড় ব্রীজ, বিরাট সব পাওয়ার প্লান্টের কাজ চলছে। টাকা দিচ্ছে চায়না, কাজ করছে চায়না, শুধু লোনটুকু ফিরিয়ে দেবে আফ্রিকা! বাজি ধরেই বলা যায়, আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চীন বিশ্বে নতুন ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
চীন জানে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো তাদের লোনের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে না, যেমনটা পারেনি শ্রীলঙ্কা। লোনের দায়ে হাম্বানটোটা বন্দরকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছে লঙ্কানরা। আফ্রিকার সমুদ্র বন্দর এবং সস্তা শ্রমের দিকেই নজর চীনের।
এইসব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলো পুরোপুরিভাবে তৈরি করার পরপরই চীন যা করবে তা আমাদের জন্য ভয়ংকর দুঃসংবাদই বয়ে আনবে।
শিল্প বিপ্লবের প্রথম ধাপে ঘটে বস্ত্রশিল্প বিপ্লব। সুতরাং আবারো গার্মেন্টস সেক্টর চলে যাবে চীনের বলয়ে। ইতিমধ্যে ইথিওপিয়ার মত দেশও আমেরিকার কাছ থেকে বড়সড় অর্ডার নিচ্ছে। ওদের মজুরিও আমাদের চেয়ে কম। আফ্রিকা থেকে আমেরিকা-ইউরোপ বেশ কাছাকাছি। সুতরাং কমে যাবে শিপিং কস্ট। ওদের শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়লে এবং এই খাতটা একটু ম্যাচিউরড হলেই ইউরোপ আমেরিকার বায়াররা বাংলাদেশের মতো দূরবর্তী দেশে আসবে না- একথা বলাই বাহুল্য।
এভাবে যদি এই সেক্টরটা ধসে পড়ে তাহলে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা কী? ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে কনভার্ট হয়ে গেছে। ইন্ডিয়া তথ্য প্রযুক্তিতে খুবই স্ট্রং জায়গায় চলে গেছে। ওরা ব্যাকআপ তৈরি করেছে। আমরা কী করেছি?
এখন প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, আয় বাড়ছে বলে কি সবসময় বাড়বে? একসময় এটা স্থির এবং মাইনাস হবেই। ভেনিজুয়েলা ২০১২-তে বেশ সুখে ছিল। এখন? দেশের মানুষগুলো কোনোরকম যুদ্ধ বিদ্রোহ ছাড়াই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, উদ্বাস্তু হয়ে অন্য দেশে ঢুকে মার খাচ্ছে। ভেনিজুয়েলা মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্তের পরোক্ষ শিকার। কোন দেশের কোন ঢেউ এসে এখানে আঘাত হানবে কে জানে!
এই যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশের সামান্য প্রস্তুতিও নাই। সরকারপন্থীরা হুজুগে মাতাল হয়ে উন্নয়নের জিকির করছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে খুশি সরকার প্রধানও সকাল-সন্ধ্যা আত্মতুষ্টির ঢেকুর তুলছেন। অথচ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময়টুকু শেষ হতে আর বেশি দেরি নাই!
Collected

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under অর্থনীতি, বাংলা ব্লগ, রাজনীতি, স্বদেশ

হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের এই সুফল

 

[https://www.prothomalo.com/opinion/article/1606178/হাজার-কোটি-টাকার-উন্নয়নের-এই-সুফল]

উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে চট্টগ্রামজুড়ে। ফ্লাইওভার হয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে, নগরবাসীকে চাহিদামতো সুপেয় পানি সরবরাহের তৎপরতা চলছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এর সুফল কতটা ভোগ করছে নগরবাসী? বর্ষা মৌসুমের মাত্র তিন-চার দিনের বৃষ্টিপাতেই যখন উন্নয়নের প্রলেপ মুছে গিয়ে এই শহরের উৎকট চেহারাটি বেরিয়ে আসে, তখন হতাশ ও বিস্মিত নাগরিকের মনে প্রশ্ন জাগে, এত ঢাকঢোল বাজিয়ে কাজের কাজটা তাহলে কী হলো?

বেশ কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকা নদীর জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হওয়া নিয়মিত ঘটনা। তার ওপর অতিবর্ষণে ডুবে যায় নগরের এক বিরাট অংশ। হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি পর্যন্ত ডুবে যাওয়া শহরে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল। সাধারণ গৃহস্থালি থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত সর্বত্র এই করুণ অবস্থার মধ্যে দিশেহারা এ অঞ্চলের মানুষ। আবার পানি নেমে যাওয়ার পর ভাঙাচোরা খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট যেন ‘উন্নয়ন’ শব্দটিকেই ব্যঙ্গে পরিণত করেছে।

চট্টগ্রামের নাগরিক সেবা ও উন্নয়নকাজে নিয়োজিত সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পাউবো, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মতো উন্নয়ন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পেশ করে। একনেকে পাস হয়ে এসব প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু এসব প্রকল্প যে জনগণকে সুফল দিতে পারছে না, তার প্রধান কারণ এই সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। তা ছাড়া অনিয়ম ও অযোগ্যতার অভিযোগ তো আছেই।

২০১৭ সালে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল সিডিএকে। এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা ইতিপূর্বে সিডিএর ছিল না। কিন্তু বরাদ্দ পেয়ে সিডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এক বছরের মধ্যেই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে। তখন সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের নানা অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নানা জটিলতার পর প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই সময় পেরিয়ে যায় ৯ মাস। এখন ১৫ মাস পর খোদ প্রকল্প বাস্তবায়নকারীরাই যখন বলছে কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৭ শতাংশ, তখন পরিকল্পনার দুর্বলতা ও অদূরদর্শিতার করুণ চিত্রটিই তো ফুটে ওঠে আমাদের সামনে।

CTG BONNA

এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরের জুনের মধ্যে। সিডিএ আশা করছে, এটি পুনরায় রিভিউ করা হবে। বলা হচ্ছে, এবার শুধু ৩৬টি খাল খনন নয়, পুরো নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে নতুন নকশা তৈরি করে কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ শেষ থেকে শুরু! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস করার আগেই এসব বিষয়ে ভাবা হলো না কেন?

সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ব্যর্থতার সূত্রে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কেও কথা উঠবে। ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি সিটি করপোরেশন। তিনটি নতুন খাল খননের কথা বলা হয়েছিল মাস্টারপ্ল্যানে। তার মধ্যে মনজুর আলম মেয়র থাকাকালে (২০১১) একটি খাল খননের প্রকল্প অনুমোদনও পেয়েছিল। কিন্তু এখনো যে তা বাস্তবায়ন হলো না, তার দায় কার? নগরের নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার রেখে পানি যাওয়ার উপযোগী করে রাখার দায়িত্বও সিটি করপোরেশনের। নালা-নর্দমাগুলোর পাড় উঁচু করে এগুলোর সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু রাস্তায় হাঁটু বা কোমরপানি উঠলেও নালা-নর্দমাগুলো দিয়ে প্রবাহিত হলো না কেন, সেই প্রশ্নও তো উঠবে। সিডিএ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়ার আগে বর্তমান মেয়র দুই বছর সময় পেয়েছিলেন। জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে তাঁরই বা কী উদ্যোগ ছিল?

চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও এর রক্ষণাবেক্ষণে গত ৯ বছরে ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছরে গড়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে এই খাতে (২০১৮-১৯) সাড়ে চার শ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু অতিবর্ষণে নগরের রাস্তাঘাটের ছাল-চামড়াহীন চেহারা দেখে এই বিরাট অর্থ ব্যয়ের পক্ষে কী যুক্তি তুলে ধরবেন মেয়র? অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে ‘সাময়িক’ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেয়র। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামতকাজ সম্পন্ন করার জন্য নগরবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি। কিন্তু একটি সড়ক নির্মাণের পর কত বছরের মধ্যে তা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হতে পারে, তার হিসাবটা দেবে কে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে মানসম্পন্ন কাজ করলে একটি সড়ক অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছর অক্ষত থাকার কথা। এখন বছর বছর শতকোটি টাকা ব্যয় করেও যদি দুর্ভোগের অবসান না হয়, তাহলে মেয়রের দুঃখ প্রকাশ নগরবাসীকে সান্ত্বনা জোগাবে না। বরং কাজের গুণমান নিয়ে তদারকি ও দক্ষতার অভাবের কথা উঠবে, অনিয়মের কথা উঠবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি প্রকল্পের কাজ চলছে এখন। রাস্তা মেরামতের অব্যবহিত পরেই ওয়াসার রাস্তা খনন পর্ব শুরু হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে ওয়াসা যত যুক্তি ও সীমাবদ্ধতার কথাই তুলে ধরুক না কেন, এ প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোগান্তিকে অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। দেখা যাচ্ছে, নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বা অসুবিধার কথা তুলে ধরে। আকারে-ইঙ্গিতে অনেক সময় পরস্পরকে দোষারোপও করে। তখনই প্রশ্ন আসে, এই শহরটার অভিভাবক আসলে কে? জবাবদিহির দায় কার?

জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের কথা বলতে গিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পুরো শহর নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। ভালো কথা। কিন্তু সমন্বয়টা করবে কে? সিটি করপোরেশনের মেয়র? সিডিএর চেয়ারম্যান? নাকি অন্য কোনো সংস্থার প্রধান? প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী একসময় ‘নগর সরকারের’ দাবি তুলেছিলেন। সে দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এখন এ বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনাও জানতে পারছি না আমরা।

সরকার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থাকে। এসব সংস্থা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যে যার মতো। উন্নয়নের মহোৎসব চলছে নগরজুড়ে। কিন্তু সাধারণ মানুষ চলতি পথে হোঁচট খেয়ে পড়ছে, খাবি খাচ্ছে অতল জলের ঘূর্ণিতে।

বিশ্বজিৎ চৌধুরী: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under অর্থনীতি, ক্ষমতাসীন দল, বাংলা ব্লগ, রাজনীতি

কতখানি নিরাপরাধ আমাদের প্রিয়া?

নামটা প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস। নামটা প্রিয়া ইসলাম বা প্রিয়া রহমান হলে কি হত?

 

১। কেমন আছেন সেই প্রশ্নে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমি ভালো নেই। আপনারা দেশে আছেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে। আমার পরিবার ভীষণ সমস্যায় আছে। গতকাল আমার বাসার তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে। বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। হুমকি দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি ছাপাতে পারতো। এর মাধ্যমে পরিবারের সবার জীবনকে বিপন্ন করা হয়েছে। আমার পরিবারের কেউ আমার কাজের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়।’

[ যারা এই কাজ করেছেন, তারা সবাই বিএনপি-র কর্মী। সরকারের উচিৎ সেই সব দুষ্কৃতিকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করা। তবে বিভিন্ন সংবাদ সূত্র জানাচ্ছে, প্রিয়ার বাসার সামনে সমাবেশ নাকি হিন্দুরাও ছিল।]

২। ট্রাম্পকে আপনি কেন এমন অভিযোগ দিলেন সেই প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া বলেন, ‘এই কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও ওপর নির্বাচনোত্তর চরম নির্যাতন চলছিল ৯৪ দিন ধরে। আজকের প্রধানমন্ত্রী তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, তার অনুসরণ করে এসব কথা বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায়, এটা আমি তার কাছে শিখেছি।’

[খেয়াল করুন, উনি কার কাছ থেকে এমন করে অভিযোগ দেওয়া শিখেছেন! তাই তো বার্তা এসেছে, ওবায়দুল কাদের মারফত, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে প্রিয়া সাহা যে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। উনি কোন উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছেন তা জানতে হবে, এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”]

৪। প্রিয়া যে বলেন, ‘২০০১ সালের পরিসংখ্যান বইয়ের সংখ্যালঘু যে চাপ্টার রয়েছে সেখানে এ বিষয়গুলো লেখা রয়েছে। প্রতি বছর সরকার যে আদমশুমারি বের করে সেই রিপোর্ট অনুসারে দেশভাগের সময় জনসংখ্যা (সংখ্যালঘু) ছিল ২৯ দশমিক ৭ ভাগ। আর এখনকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯ দশমিক ৭ ভাগ। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়নের মতো। তো সেক্ষেত্রে জনসংখ্যা একইভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে আমি ক্রমাগতভাবে হারিয়ে গেছে বলে যে সংখ্যা বলেছি সেটা মিলে যায়।’

৫। তিনি আরো যোগ করেন, ‘সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বইয়ের ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক আবুল বারকাত গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণায় উনি দেখিয়েছেন, প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ৬৩২ জন লোক হারিয়ে যাচ্ছে। আমি ২০১১ সালে স্যারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছিলাম এ কারণে এ বিষয়ে অবহিত।’

তিনি উদাহরণ দেন, ‘আমার নিজের গ্রামের কথা বলেছি। সেখানে ২০০৪ সালে ৪০টি পরিবার ছিল। এখন ১৩টি পরিবার আছে। এই মানুষগুলো কোথায় গেল, কোথায় আছে সেটা রাষ্ট্রের দেখার কথা।’

[ এ প্রসঙ্গে উনার এলাকার এমপি (পিরোজপুর-১) ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘ … আমার এলাকায় কোনভাবেই কোন অসম্প্রীতি হয়নি, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রিয়া সাহার কোনো সম্পত্তি কেউ নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য। মুসলিম মৌলবাদীরা ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তাও অসত্য।’ তিনি আরও বলেন যে ঐ নির্বাচনী এলাকায় একজন হিন্দুও কোনভাবে গুম হয়েছেন কিনা, প্রিয়া সাহার অভিযোগের কোন সত্যতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

< বিস্তারিতঃ http://www.dailynayadiganta.com/politics/426967/’মুসলিম-মৌলবাদীরা-ঘটনা-ঘটিয়েছেন-বলে-প্রিয়া-যে-অভিযোগ-করেছেন-তাও-অসত্য-গণপূর্ত-মন্ত্রী > ]

৬। প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এরপর তিনি বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতির সঙ্গে এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

[ সবচেয়ে ভালো কথা বলেছেন বিখ্যাত আইনজীবি সিরাজুল হকের ছেলে এবং বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, “প্রিয়া সাহার দেয়া মিথ্যা বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। এটা তার ব্যক্তিগত ঈর্ষা চরিতার্থের জন্য করেছে। এত ছোট্ট ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে গেছে, তা মনে করি না।”

সূত্রঃ https://www.dailyinqilab.com/article/221772/এত-ছোট্ট-ঘটনাকে-রাষ্ট্রদ্রোহ-মনে-করি-না-আইনমন্ত্রী ]

কে সত্য বললেন, কে মিথ্যা বললেন, আসুন তা বাটখারা দিয়ে মাপি। আর বাটখারাটি কি, জানেন কেউ? এটি জনগণের (আওয়ামী শব্দের অর্থ জনতা) বাটখারা! বলুন তো এই বাটখারা দিয়ে মাপলে কি ওজনে কম বেশি হবে?

তাই আসুন ধন্যবাদ দেই ভাগ্যকে! আজ এই নামটি প্রিয়া ইসলাম বা প্রিয়া রহমান হলে এই দেশের ৬৪টি জেলায় কয়টি দেশদ্রোহীতার মামলা হত? আর মানহানির মামলার টাকার পরিমাণ কত হাজার কোটি টাকা হত?

ধন্যবাদ!

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Filed under ক্ষমতাসীন দল, ধর্ম, বাংলা ব্লগ, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংবিধান, স্বদেশ